তাহলে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে পারেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক শক্তিতে জেতার চেয়ে যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশলে বাজি ধরছে ইরান। তেহরানের লক্ষ্য স্পষ্ট—সরাসরি সংঘাত নয়; বরং ‘টিকে থাকার এক নির্মম যুদ্ধে’ প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলা।
ইরানের এই কৌশলের মূলে রয়েছে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ভীতি ছড়ানো এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া। বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকটের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে পিছু হটতে বাধ্য করাই এখন তেহরানের প্রধান চাল।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় বড় ধাক্কা এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পরও ময়দানে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির এই প্রধান প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে যুদ্ধের গতি–প্রকৃতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। পূর্বপরিকল্পিত সব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি হামলার লক্ষ্যবস্তু এবং যুদ্ধের সামগ্রিক কৌশল এখন তাদের নির্দেশেই নির্ধারিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলাতেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আসীন করার ক্ষেত্রেও আইআরজিসি চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান শেষ হলে তেহরানের কাছে এমন কোনো অস্ত্র অবশিষ্ট থাকবে না, যা দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা মার্কিন মিত্রদের ওপর আঘাত হানতে পারে। অন্তত দীর্ঘ সময়ের জন্য তারা এই সক্ষমতা হারাবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, যুদ্ধ শুরুর অনেক আগেই তারা এমন পরিস্থিতির আভাস পেয়েছিল। ইরানের নীতিনির্ধারকদের ধারণা ছিল, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সঙ্গে এই সংঘাত এড়ানো অসম্ভব। আর তাই আইআরজিসির বিশাল সামরিক নেটওয়ার্ক এবং প্রক্সি বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে তারা আগে থেকেই একটি বহুমুখী রণকৌশল তৈরি করে রেখেছিল।
সূত্রগুলো বলছে, এখন হারাবার মতো আর তেমন কিছু নেই ইরানের কাছে। তাই তারা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই নেমেছে। এই সংঘাতকে তারা এখন এক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ দিচ্ছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই পরিবর্তনের হাওয়া দৃশ্যমান। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে,